1. sm.khakon@gmail.com : admin :
  2. rayhansumon2019@gmail.com : rayhan sumon : rayhan sumon
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

সরকারের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত দামে মিলছেনা পণ্য : তদারকির দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি
  • বুধবার, ২০ মার্চ, ২০২৪
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, সবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ২৯টি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও এখনও বাজারে কার্যকর হয়নি কোনো পণ্যের দাম। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না কোনো পণ্যই। এমন পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার (১৫মার্চ) ২৯টি কৃষিপণ্যের দাম বেঁধে দেয় সরকার। কিন্তু পরের দিনই (শনিবার) বাজারে গিয়ে সরকার-নির্ধারিত দামে কোনো পণ্য বিক্রি হতে দেখা যায়নি।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা ৪০ পয়সায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি। একইভাবে কাঁচা মরিচ,বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, দেশি রসুন, আমদানিকৃত আদা ও আলুর দামেও বড় পার্থক্য রয়েছে। গরুর মাংসের দাম ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি ৬৬৪ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭শ থেকে ৮শ টাকা দরে। খুচরা পর্যায়ে গতকাল প্রতি কেজি খেসারির ডাল ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

যদিও সরকার-নিধারিত দাম ছিল ৯২ টাকা। ব্রয়লার মুরগির সরকার-নির্ধারিত দাম ১৭৫ টাকা। গতকাল সেই মুরগি হবিগঞ্জের কাঁচাবাজারে ২৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। কাতল মাছের খুচরা দাম সর্বোচ্চ ৩৫৪ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। কিন্তু বাজারে বিক্রি হয়েছে কেজি ৪০০ টাকায়। প্রতিটি ডিমের দাম ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকায়। টমেটোর খুচরা মূল্য ৪০ টাকা বলা হলেও বাজারে ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রোজায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ জাহিদি খেজুরের কেজি সর্বোচ্চ ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কিন্তু বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকায়। চৌধুরী বাজারের ফল ব্যবসায়ী মোর্শেদ বলেন, পাইকারিতে এই খেজুর কেনা পড়েছে ৩০০ টাকার বেশি। সরকার মুখস্থ দাম বেঁধে দিলে তো হবে না। বেশি দামে পণ্য বিক্রির বিষয়ে শায়েস্তানগর বাজারের সুমাইয়া জেনারেল স্টোরের মালিক কামাল আহমেদ বলেন, পাইকারি থেকে খেসারির ডাল ১২৫ টাকায় কেনা। বাজার যাচাই না করে খেয়ালখুশি মতো দাম বেঁধে দিলে কি হবে।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এন এম রেজাউল ইসলাম বলেন, পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়ার আগে তিন মাস ধরে আমাদের কর্মীরা মাঠে কাজ করেছেন। এখানে বৈজ্ঞানিক পন্থা অবলম্ব করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চ পচনশীল পণ্যে ৩০-৪০ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হয়েছে। বেঁধে দেওয়া দামের সঙ্গে বাজারে মিল না পাওয়ার বিষয়ে রেজাউল ইসলাম বলেন, মাত্র সার্কুলার দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে। কেউ অমান্য করলে এক বছরের কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

একই অপরাধ পুনরায় করলে দ্বিগুণ অর্থ ও কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। যদিও সরকার-নির্ধারিত সর্বোচ্চ দাম ৬০ টাকা। আলুর দাম ২৮ টাকা নির্ধারণ করলেও বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

বিস্তারিত জানতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেবানন্দ সিনহা দৈনিক আমার হবিগঞ্জকে বলেন, ২০১৮ সালের কৃষি বিপণন আইন অনুযায়ী, কৃষিপণ্যের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কাজ করছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এরপরও বিষয়টি আমরা তদারকি করে দেখবো।

অন্যদিকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে গত বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) প্রজ্ঞাপন জারি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১০৯ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১০৮ টাকা ২৫ পয়সা। ভেজাল প্রতিরোধে কেরোসিনের দাম ডিজেলের সমান রাখা হয়। অকটেনের দাম ১৩০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১২৬ টাকা। আর পেট্রোলের দাম ১২৫ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১২২ টাকা।

কিন্তু বাজারে খুচরা পর্যায়ে সরকারের এই নিয়মে কেউ ই জ¦ালানি তেল বিক্রি করছেন না। সরকারের নির্দেশনা প্রভাব পড়েনি বাজারে। বিক্রেতারা জানান,আমরা এখনো কোন নির্দেশনা পাইনি। আমরা পাম্প থেকেই আগের দামেই কিনে নিয়ে আসি। খুচরা পর্যায়ে হাট-বাজারে সরকারের এই বেঁধে দেয়া দাম ও প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পণ্য বিক্রি হচ্ছে কিনা সেটা সঠিকভাবে তদারকি করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আহবান জানিয়েছেন ভোক্তারা।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
বানিয়াচং মিরর  © ২০২৩, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD