1. sm.khakon@gmail.com : admin :
  2. rayhansumon2019@gmail.com : rayhan sumon : rayhan sumon
শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনে আমাকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে-অ্যাড.আলমগীর চৌধুরী

বিশেষ প্রতিনিধি
  • মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০২৪
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

৩ জন এমপিসহ জেলা, পৌরসভা ও জেলার অন্তর্গত সকল উপজেলা ইউনিটের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুণ্য পদে নির্বাচন করে জেলাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী।

যদিও এই নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৩ আসনের ৪ বারের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু জাহিরের স্ত্রী ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া আক্তারের কাছে মাত্র ৬৩ ভোটের ব্যবধানে হারতে হয়েছে তাকে। তারা মনে করেছিল হয়তো বা ৪ থেকে ৫শ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবে। আলেয়া আক্তার আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৬৪ ভোট আর আলমগীর চৌধুরী ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পান ৫০১ ভোট।

তবে এই নির্বাচন ছিল আত্নমর্যাদার ছিল অনেক চ্যালেঞ্জের। সেই চ্যালেঞ্জকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আলমগীর চৌধুরী। স্বভাবতই বলা যায় এই ৫০১ ভোট ই জেলাবাসীকে একটা ম্যাসেজ দিয়েছে যে নির্বাচন কারো একক আধিপত্যে বা কারো নির্দেশে হয়নি।

এদিকে সমাপ্ত হওয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরীর বিপরীতে এমপি জাহিরের স্ত্রীকে চেয়ারম্যান পদে দাঁড় করানোর ফলে কার্যত এমপি জাহির ও অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরীর মধ্যকার সম্পর্ক সাপে-নেউলে দেখা দিয়েছে। এমপি জাহিরের দীর্ঘ ৪১ বছরের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও বিশ^স্তকর্মী নির্বাচনকালীন সময়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডের সমালোচনা করে তার বিরুদ্ধে নিজের ঝাল মেটাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী।

জেলাজুড়ে প্রকাশ পাচ্ছে অবশেষে আবু জাহির এমপি’র গোলামীর রাজনীতি থেকে অনেকটাই সরে আসছেন তিনি। বিষয়টা ভালো ভাবে নিলেও জেলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেতাকর্মীরা অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরীকে যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। তারা মনে করছেন আদৌ কি তিনি এমপি জাহিরের বলয় থেকে বের হতে পারবেন। ছাড়তে কি পারবেন তার গোলামীর রাজনীতি? আর যদি ছাড়তে পারেন তাহলে জেলার স্থানীয় রাজনীতিতে একটা প্রভাব ফেলতে পারবেন অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী। আর সেটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। কমিটি গঠন থেকে শুরু করে দলের নানা অনুষ্ঠানে এমপি আবু জাহিরের যে একক আধিপত্য ছিল সেটার একটা অবসান হবে অচিরেই।

অন্যদিকে হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আবু জাহির তার স্ত্রীকে জেলা পরিষদের মসনদে বসাবার জন্য নির্বাচনের পূর্বে বেশ কয়েকবার জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুরের কলঙ্ক যুদ্ধাপরাধী মৃত্যুদ-াদেশ প্রাপ্ত কাউসারের ভাই মাধবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শিল্পপতি ফয়সলের সঙ্গে এক টেবিলে এক মঞ্চে বসে সলা-পরামর্শ করেছেন।

সেটার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে জেলাজুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। আগামী মাধবপুর উপজেলা পরিষদর নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তান সৈয়দ শাহজাহানকে সমর্থন ও সায়হাম পরিবারকে প্রশাসনিক শেল্টার দেয়ার নিশ্চয়তাও প্রদান করা হয়েছে বলে একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা জানান, আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি কি করে দলের আদর্শকে বিলীন দিয়ে নিজের পরিবার অর্থাৎ স্ত্রীর পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য বিএনপি নেতা আলোচিত যুদ্ধাপরাধী ফাঁসির দন্ডের আসামি পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় বসেন সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। অথচ নিজেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে গলা ফাঁটানোর বক্তব্য প্রদান করেন। যে কাউকে যুদ্ধাপরাধীর তকমা লাগিয়ে দেন হুটহাট করে।

তারা আরো বলেন, তার বিপক্ষে গেলেই তিনি এভাবে বলেন আর পক্ষে থাকলে অযোগ্যদের এমপি জাহির রাজনীতিতে কাছে টেনে নেন যার প্রতিফলন দেখা যায় বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির দিকে তাকালে। দলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে নিজের কথায় যারা উঠবস করে বা করবে একমাত্র তাদেরকেই কমিটিতে রেখেছেন এমপি জাহির।

সম্প্রতি শেষ হওয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুণ্য পদে উপনির্বাচন ও জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং ভবিষ্যত রাজনীতিসহ আদ্যপান্ত নিয়ে একান্তে কথা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরীর সাথে। তিনি দৈনিক আমার হবিগঞ্জকে জানান, নির্বাচনে আমার বিজয় সুনিশ্চিত ছিল।

আমাকে রাতের আধারে কৌশলে হারানো হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি উপজেলার ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখিয়েছেন আবু জাহির এমপি ও তার অনুগতরা। অনেক ভোটারদের বলে দিয়েছেন তারা যেন মোবাইলের মাধ্যমে ছবি তোলে নিয়ে আসে। তবে তার এই মিশন সফল হয়নি। প্রশাসন শক্ত থাকায় ভোটাররা কোন ডিভাইস নিয়ে ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে পারেন নাই।

অন্যদিকে হবিগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েল আমার বিপক্ষে কাজ করায় বানিয়াচংয়ে আমি কম ভোট পেয়েছি। নতুবা ওই উপজেলায়ও আমার লীড করার কথা ছিল। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বলেন,আমি কারো ব্যক্তিগত সেক্রেটারি না।

আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সেক্রেটারি। আমি প্রধানমন্ত্রীর সেক্রেটারি। কেউ যদি মনে করে আমি তার সম্পাদক তাহলে সে বোকার স্বর্গে বাস করছে। এই নির্বাচনে আমার প্রত্যাশিত ফলাফল হয়নি। আমি আবারো বলছি আমাকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আমি স্থানীয় এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দলকে সুসংহত করতে কাজ করে যাবো। তৃণমূল নেতাদের সাথে আমি আছি আর ভবিষ্যতেও থাকবো। আশা করছি অচিরেই এর একটা প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে।

নির্বাচনের পর এমপি আবু জাহির ও তার স্ত্রীর সাথে কোন ধরণের কথা কিংবা তারা কেউ ফোন দিয়েছিল কিনা জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী জানান, না তারা কারো সাথে আমার কোন কথা হয়নি। এমনকি কেউ ফোনও দেয়নি আমাকে।

একপর্যায়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের সময় যেমন বানিয়াচং, চুনারুঘাটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি আমার প্রতিপক্ষের এজেন্ট হিসেবে ভোট কক্ষে কাজ করেছেন। অথচ আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সস্পাদক হওয়া সত্ত্বেও তারা আমার পক্ষে কাজ করেনি। তারা জেলা সভাপতির কথায় তার বৌয়ের হয়ে কাজ করেছেন।

সাধারণ নেতাকর্মীরা এমনকি মাঠ পর্যায়ে তো বলাবলি হচ্ছে যে আপনি আবার এমপি জাহিরের সাথে এক হয়ে যাবেন। তার মানে হলো তারা আপনাকে বিশ্বাস করতে পারছে না। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন ? এই প্রশ্লের উত্তরে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আলমগীর চৌধুরী জানান, দেখেন রাজনীতি এমন এক জিনিস যেখানে নেতাদের উপর সাধারণ কর্মীদের বিশ্বাস থাকতে হয়। এতো কিছুর পরেও কারো সাথে মিশে যাওয়া বা কারো কথায় কাজ করে যাবো আশ করছি এমনটা আদৌ হবে না।

আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমারও নিজস্ব বলয় বলতে একটা জিনিস আছে। তাই নেতাকর্মীদের বলবো একটু ধৈর্য্য ধরেন। শীঘ্রই একটা কিছু হবে। অন্ধকারের পর আলো উদিত হবেই সেটা আমি বিশ্বাস করি।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
বানিয়াচং মিরর  © ২০২৩, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD