1. sm.khakon@gmail.com : admin :
  2. rayhansumon2019@gmail.com : rayhan sumon : rayhan sumon
শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকে রোগী ভাগিয়ে নিতে চলে তৎপরতা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

জেলা সদর হাসপাতালের মতো উপজেলা পর্যায়েও সরকারি হাসপাতালে দালালদের শক্তিশালী সক্রিয় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের কাজ সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকে নিয়ে যাওয়া। আর রোগী ভাগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নিয়মিত দালালরা ঘন্টার পর ঘন্টা সেখানে থেকে দুর-দুরান্ত হতে আসা রোগীদের বুঝিয়ে- সুঝিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকে নিয়ে যাচ্ছে। তার ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা প্রান্তীক পর্যায়ের রোগীরা।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার (২৯ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে এগারটায় বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমনই কয়েক দালালদের উৎপাত চোখে পড়ে। হাসপাতাল সূত্রে ও রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের উৎপাত নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে আসলেই চোখে পড়ে রোগীর প্রেসক্রিপশন নিয়ে দালালদের টানাটানি।

স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন ও বিষয়টি দেখে ও যেন না দেখার ভান করছেন। অথচ সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগীদের উন্নত চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অজুহাতে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিকে নিয়ে গেলেও ভর্তি হয়ে থাকতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই। রোগীদের নিয়ে বাণিজ্য করে অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের মালিক ও দালালরা বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কারণ রোগী ভাগিয়ে তাদের ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে নানা কৌশলে টাকা আদায় করছে এসব প্রতিষ্ঠান।

নামমাত্র সেবা প্রদান করে হাতিয়ে নিচ্ছে বড়ো অংকের টাকা। অযথা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে ভর্তি থেকে শুরু করে এমনকি রোগী বিদায় হওয়া পর্যন্ত এসব দেখাশুনা করে নিয়োজিত দালালরা। সংশ্লিষ্ট সুত্রমতে, বানিয়াচং উপজেলার সদরের কয়েকটি বাজারে গড়ে উঠেছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত দালালরাই মূলত সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভাগিয়ে নিচ্ছে।

যদিও বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মোটামুটি ব্যবস্থা রয়েছে তারপরও কমিশনের লোভে এক শ্রেণির সরকারি চিকিৎসকরা বিভিন্ন ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরাই ওই এলাকার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মুল টার্গেট। সে জন্য তাদের নিয়োজিত দালালদের নিয়োগ করা হয়েছে। এসব দালালরা রোগী ধরতে ফাঁদ পেতে বসে থাকে। আবার অনেক ক্লিনিকের নিজস্ব মার্কেটিং প্রতিনিধি আছে। তারা বেতন ও কমিশন হিসেবে এসবে কাজ করে।

এসব দালালরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবস্থান করে। রোগী ভাগিয়ে নিতে তাদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগীতা শুরু হয়। অনেক সময় রোগীদের দেয়া প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করে তারা। টানাহেঁচড়া করার কারণে কয়েকদিন পূর্বে এক দালালকে পিটুনি ও দিয়েছে রোগীর স্বজনরা। এদিকে বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকার পরেও দালালদের এতে কোন ভাবলেশ নেই। কয়েকজন চিকিৎসকের সাথে এদের রয়েছে সখ্যতা।

ওই চিকিৎসকরা যে কাজটি তাদের চেম্বারে বা জরুরী বিভাগে করতে পারেন সেই কাজটা মোটা অংকের টাকার আশায় অনেকে ঔষধের দোকানে রোগী দেখছেন। ছোটখাতো কাজ তারা সেখানেই সেরে নিচ্ছেন। তবে এসব তারা অফিস টাইমের বাহিরে গিয়ে করছেন বলে জানা গেছে।

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য প:প: কর্মকর্তা ডা: শামীমা আক্তার বলেন, অনেক চিকিৎসকের রোস্টার অনুযায়ী উিউটি দেয়া থাকে। তাদের উিউটির সময় যদি ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা না প্রদান করেন সেটা দেখার বিষয় আছে। তবে ডিউটির পর যদি অন্য কোথাও রোগী দেখেন এসবে আমার কোন কিছু করার নাই। তবে দালালদের বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখব।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
বানিয়াচং মিরর  © ২০২৩, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD