1. sm.khakon@gmail.com : admin :
  2. rayhansumon2019@gmail.com : rayhan sumon : rayhan sumon
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

সমালোচনা মানুষের ব্যক্তিত্বকে ধ্বংস করে দেয়

ইমতিয়াজ আহমেদ লিলু
  • বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৫৬৭৩ বার পড়া হয়েছে

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। ব্যক্তি মানুষের সব সার্থকতা সমাজকে কেন্দ্র করেই। সমাজে স্বীকৃতির ওপর নির্ভর করেই মানুষের সম্পূর্ণতা। কিন্তু মানুষ দল বেঁধে বাস করলেই তা সমাজ হয় না।

প্রত্যেক মানুষ একে অপরের কল্যাণের কথা ভেবে সাধ্য মতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে নিয়ম ও শৃঙ্খলার অদৃশ্য বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বাস করলে সেই জনগোষ্ঠীকে সমাজ বলে।

কিন্তু সমাজ ও দেশের উন্নয়নের জন্য যদি আপনি ভালো কাজ করেন তাহলে দেখবেন এক শ্রেণীর মানুষ আপনার কাজের সমালোচনা করবেই।

মানুষকে নিয়ে সমালোচনা বা উপহাস করা ঠিক নয়। অন্যদের নিয়ে সমালোচনা করার আগে নিজের দিকে আগে তাকান। আপনি আজ একজনকে নিয়ে উপহাস করছেন। হয়তো একদিন আসবে আপনাকে নিয়ে আরেকজন উপহাস করছে।

তখন আপনার কি রকম লাগবে? অবশ্যই আপনারও ভালো লাগবে না। আমরা সমাজের সকলের সাথে বসবাস করি। আমাদের উচিত একে অপরকে সাহায্য করা কাউকে নিয়ে সমালোচনা বা উপহাস করা নয়। আপনি শুধু সামনের দিকে এগোতে থাকলে নিন্দুকরা আপনার সমালোচনা করবেই। সেক্ষেত্রে চিন্তার কোনো কারণ নেই।

“ভালো কিছু করলে লোকে অনেক কথা বলবে”-শুধুমাত্র এই কথাটি মাথায় রেখে এগিয়ে চলুন। তাতে আপনার আত্নবিশ্বাস আরও বাড়বে। সবসময় মনে রাখবেন, আপনি ভালো কিছু করছেন বলেই লোকেরা আপনাকে নিয়ে এতো কিছু বলাবলি করছে। তাই পিছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলুন, সফলতা আসবেই।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘পেছনে ও সামনে প্রত্যেক পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ-ধ্বংস। (সুরা হুমাজাহ, আয়াত : ০১) আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের অন্য জায়গায় ইরশাদ করেন, ‘তোমরা একে অন্যের দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করো না এবং পরস্পর গিবত করো না।

তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে? বস্তুত, তোমরা তা ঘৃণাই কর। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। ’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১২)। গুণীজনরা বলেন-“সমালোচনা করতে যোগ্যতার প্রয়োজন হয়না, যে কেউ সমালোচনা করতে পারে।

সমাজের সবচেয়ে অযোগ্য মানুষ গুলোরই প্রধান হাতিয়ার হলো অপরের ভালো-মন্দ সবকিছুতে নির্বিচারে সমালোচনা করা। অপরদিকে সমালোচিত হতে হলেও যোগ্যতার প্রয়োজন আছে।

কেউ যখন তার যোগ্যতা দিয়ে নতুন বা উদ্ভাবনী কিছু করবে তখন ই একদল অযোগ্য লোকের আতে ঘা হয়ে লাগে এবং সমালোচনা শুরু করে।”কথাটা মিথ্যে নয়, অমোঘ সত্য।

যারা সমালোচনা করার মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি করছে বলে আত্মতৃপ্তিতে ভুগছেন, তারা পরোক্ষভাবে সমালোচিতদের পরম উপকার সাধন হয়তো করে ফেলছে। কিন্তু সেটা বোঝার মতো মাথাটা তাদের যে জায়গাটাতে থাকা দরকার ছিল সেখানে হয়তো নেই।

আজকের সমাজে বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনার দৈন্যদশা চলছে। গঠনমূলক সমালোচনার জায়গায় অগঠনমূলক সমালোচনার ধজ্জাধারীদের বাড়টাও বেড়েছে অনেক। তবে সেটা যত বেড়েছে সমালোচিত মানুষদের ইতিবাচক জেদটাও তত বেড়েছে।

ফলে দিন দিন ইলোজিক্যাল সমালোচনাকারীরা পিছিয়ে পড়ছে আর দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সমালোচিতদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত আছে। সমালোচনা মানুষকে সাময়িক সুবিধা দেয় হয়তো তবে তা মানুষের ব্যক্তিত্বও ধ্বংস করে দেয়। শক্ত মেরুদণ্ডে পচন ধরায়। ইতিহাস তাই বলছে।

শেরে বাংলা এ, কে ফজলুল হক বলেন, আপনি যদি কোন ভালো কাজ করেন তাহলে লোকে আপনার সমালোচনা করবেই। আম গাছে আম ধরে বলেই লোকে ঢিল ছোঁড়ে। ফজলি আম গাছে আরও বেশি ঢিল ছোঁড়ে। শেওড়া গাছে কেউ ভুলেও ঢিল ছোঁড়ে না।

ভালো একজন মানুষ হতে হলে অবশ্যই নিজেকে আগে জানতে হবে। আর যে নিজের সমালোচনা করতে পারে, সেই তো আসল বুদ্ধিমান। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ আব্রাহাম লিংকন বলেন, “সমালোচনার করার অধিকার শুধুমাত্র তারই আছে যার সাহায্য করার মতো হৃদয় আছে”।

তাই অন্যের সমালোচনা করে আপনি পার পেয়ে যাবেন এটা ভুল ধারণা! একটা না একটা সময় আপনার চাদরে মোড়া খারাপ দিকগুলো অন্যের সামনে প্রকাশ হবেই। তখন আর লজ্জার শেষ থাকবে না।

তাই নিজেকে ভালোভাবে তৈরি করে, তারপর অন্যকে বিচার করতে যাওয়াই ভালো। তাই আসুন আমরা অন্যের সমালোচনা থেকে দূরে থাকি, ভালো কাজের প্রশংসা করি। নিজে সমাজের জন্য ভালো কাজ করি এবং অন্যকে ভাল কাজ করতে উৎসাহিত করি।

লেখক

সিনিয়র সহসভাপতি

বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব ।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
বানিয়াচং মিরর  © ২০২৩, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD